Homeজাতীয়বাজেট ঘোষণার নৈতিক ভিত্তি সরকারের নেই ভিপি নুর

বাজেট ঘোষণার নৈতিক ভিত্তি সরকারের নেই ভিপি নুর

বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ‘তারুণ্যের বাজেট পর্যালোচনা-২০২১ ইং’ আলোচনায় এ মন্তব্য করেন ছাত্র,যুব,শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুলহক নুর।৭ জুন সোমবার সকাল ১১.৩০ টায় রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নুরুলহক নুর বলেন, বাজেট একটি দেশের আয়-ব্যয়সহ সামগ্রিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও উন্নয়নের মাপকাঠি।যদিও বর্তমানের বিনা ভোটের কর্তৃত্ববাদী, অগণতান্ত্রিক এ সরকারের বাজেট ঘোষণার নৈতিক ভিত্তি নেই,তারপরেও এখন যেহেতু আমরা এদেরকে সরাতে পারছি না,তারা যেহেতু জোর করে ক্ষমতায় আছে,বাজেট দিয়েছে তাই আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছি।

মহামারী বিবেচনায় এ বাজেটে সেভাবে জনস্বার্থের প্রতিফলন ঘটেনি। এ পরিস্থিতিতে যেখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিলো। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়নি, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন ভুর্তুকি বা প্রণোদনা নেই।স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে যেখানে সকলের জন্য টিকা নিশ্চিতের পাশাপাশি জেলা,উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে বাড়তি বরাদ্দ দরকার ছিলো,সেখানে বাজেটে এ নিয়ে কোন রূপরেখা দেওয়া হয়নি। সর্বোপরি, এ বাজেটে যে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রা ও দেশী-বিদেশি উৎস থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জন অসম্ভব। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে গত দু’বছরে পৌনে ৩ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়নি সেখানে মহামারীতে কিভাবে ৩ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে? তাছাড়া বাজেটে যেভাবে অভ্যন্তরীন উৎস থেকে বিশেষ করে বেসরকারি ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ধরা হয়েছে তা অবাস্তব ও আত্মঘাতী।জনগণের কাছে জবাবদিহিতা না থাকায়ই সরকার এভাবে অতি ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেটের নামে ভাওতাবাজির বাজেট দিয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, সরকারের উচিত ছিলো একজন শিক্ষিত ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকের দ্বারা এ বাজেট ঘোষণা করানো, একজন ব্যবসায়ী অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের জন্যই এই বাজেট ঘোষণা করেছেন যাতে জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়া হয়নি । প্রতিটি প্রকল্পে সরকারের লুটপাটের কারণে এ বাজেট বাস্তবায়ন হবে না, তাই ঘোষিত এই বাজেট একটি ব্যর্থ বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন ড. রেজা কিবরিয়া। তিনি আরো বলেন, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বরাদ্দের পুরো টাকাই অপব্যবহার করছে, ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই আমরা ব্যবহার করতে পারছি না, অথচ এখাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, লুটপাট হচ্ছে। এ মূহুর্তে দেশের সবচেয়েই গুরুত্বপূর্ণ দুইটি খাত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কে এই বাজেট প্রাধান্য দেয়া হয়নি। মহামারী করোনা বিবেচনায় স্বাস্থ্য খাতকে অনেক গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া।

অনুষ্ঠানে ভ্যার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এই বাজেটে যাদের অনেক সম্পদ আছে যেমন কর্পোরেট শ্রেণী,গার্মেন্টস মালিক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পুঁজিপতি ইত্যাদি তাদেরকেই সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে দরিদ্র, সম্পদহীন,কম সম্পদশালী বিশাল জনগোষ্ঠীর উপর উল্টো করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে কিছু তেমন দেয়া হয়নি।তিনি সরকারের সমালোচনা করে আরো বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও কয়লা নির্ভর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বছর বছর বাজেটে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে, অথচ এসব কোম্পানির বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করতে পারছি না। এছাড়া তেল,গ্যাসও পানির দাম কয়েকদিন পরপর বাড়িয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন নাভিশ্বাস করে দিচ্ছে এ সরকার বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি বেলা’র প্রধান নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এই বাজেট পরিবেশ বান্ধব হয়নি,গত বছর থেকেও এবার পরিবেশ-প্রাণ-প্রকৃতিকে অনেক কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’

ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক রাশেদ খান বলেন, শিক্ষাখাতে ৭১ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ১১.৯২%। যা আন্তর্জাতিক মানের দিক থেকে নগন্য। যেকোন দেশের শিক্ষাখাতে বাজেট মোট বাজেটের ১৫-২০% হওয়া উচিত। কিন্তু বাংলাদেশে শিক্ষাখাত গুরুত্বহীন। দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই বাজেটে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের উপরে ১৫% ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষাখাত একপ্রকার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে । শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এ বাজেটে লক্ষ্য করা যায় নি।

যুব অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব মনজুর মোর্শেদ মামুনের সঞ্চলনায় আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্মআহ্বায়ক ফারুক হাসান, লেখক ও গবেষক রাখাল রাহা, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহ।

RELATED ARTICLES

Most Popular