Homeসারাদেশযশোরের নওয়াপাড়া ইনষ্টিটিউটে উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন

যশোরের নওয়াপাড়া ইনষ্টিটিউটে উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন

সারাদেশঃ

উৎসব মুখর পরিবেশে ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে ব্যাপক সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে যশোরের নওয়াপাড়া ইনষ্টিটিউট‘র নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা-দুর্ঘটনা ও বেশ অব্যবস্থাপনাকে পাশ কাটিয়ে কাঙ্খিত ভোটের ফলাফল জানার অধীর আগ্রহ যেন কোন ভাবেই শেষ হচ্ছিল না। ভোটার শুধু নয়, নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে কৌতুহল ছিল কে হচ্ছে আগামী ৩ বছরের জন্য নওয়াপাড়া ইনষ্টিটিউটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কে হচ্ছেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আর কে-ই বা হচ্ছেন কানিস সদস্যদের মধ্যে প্রথম দ্বিতীয় বা তৃতীয়?

অবশেষে সকল কিছুকে পিছনে ফেলে সম্মানিত ভোটারদের ব্যালট বিচারের মাধ্যমে নির্বাচনের বিজয় যেন সব প্রশ্নের উত্তর একসাথে জানান দিয়ে গেছে। তবে বলতে দ্বিধা নেই, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যেমন ভোটার ও সাধারণ মানুষরে উপস্থিতি ছিল ঠিক তেমনি নির্বাচন কমিশনের অদূরদর্শিতার কারণে ঘানিকটা অব্যবস্থাপনা লক্ষ করা গেছে। ভোট দিতে আসা ভোটারদের দাবি, কেন একটি ঘরের মধ্যে মাত্র দুইটি টেবিলে সকল ভোটারদের ব্যালট দেয়ার কাজটা করতে হলো? কেন আরও বেশি টেবিল ও জনবল দিয়ে ভোট গ্রহণের চাকা দ্রুত চালানো গেলনা? এনিয়ে রীতিমত ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে ভোটারদের। দীর্ঘক্ষণ লাইন দাড়িয়ে কষ্ট সহ্য করে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা, আবার লাইন ছাড়া কেউ কেউ আগে ভোট দিল এনিয়ে মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাটি লেগেই ছিল। এনিয়ে হিমশিম খেতে দেখা গেছে নির্বাচন কমিশনকে।

তবে ভোটারদের উপস্থিতিই সকল ব্যবস্থাপনাকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে বলেই অনেকের মত। এদিকে নির্বাচনের মাঠে ছোটখাটো অপ্রীতিকর কর্মকান্ড যে কারোরই কাম্য ছিলনা। এনিয়ে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাগেছে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে। আবার দু-একজন ভোটার ভোট দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও খবর জানাগেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোট গ্রহণ। বিকাল ৪টার মধ্যে ভোট গ্রহণ শেষ হবেনা মর্মে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহনের সময় বৃদ্ধি করা হয়। সবশেষে রাত ৯টার পর আসতে শুরু করে কাঙ্খিত ফলাফল। নির্বাচন কমিশনের বেসরকারী ফলাফলে দেখা যায়, তিনটি পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয় আর তা হলো যুগ্ম সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও কার্নিস সদস্য ৮ জন। যার বিপরীতে একাধিক প্রার্থী ভোটে অংশ গ্রহণ করে। তবে ফলাফলে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা হলেন, যুগ্ম সম্পাদক পদে গোলাপ ফুল প্রতিকের জিয়া উদ্দিন পলাশ, তার প্রাপ্ত ভোট ৯শ’ ২৩ পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে গরুর গাড়ী প্রতিকের জিএম মনিরুজ্জামান মনি, তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

এছাড়া সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন ৮জন। যথাক্রমে- হাঁস প্রতিকের প্রার্থী রওশন কবির টুটুল ১ হাজার ১শ’ ৫৮ ভোট, আম প্রতিকের প্রিয়ব্রত ঘোষ লিটন ১ হাজার ২৮ ভোট, ফুটবল প্রতিকের আসাদুজ্জামান জনি ৯শ’ ৭৯ ভোট, চেয়ার প্রতিকের প্রসেনজিত দাস সনজিত ৯শ’ ৪৭ ভোট, বাঘ প্রতিকের আরাফাতুর রহমান ইরান ৯শ’ ৩৫ ভোট, মই প্রতিকের বাকিউজ্জামান রানা ৯শ’ ৮ ভোট, সাইকেল প্রতিকের লিটন কুমার কুন্ডু ৮শ’ ৩৭, মাছ প্রতিকের বিশ্বজিৎ গুহ ৮শ’ ২৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট দিতে আসা একাধিক ভোটার জানান, উৎসব মূখর পরিবেশে ভোট দিয়েছি তবে ভোটকেন্দ্রের অব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মত। শৃঙ্খলা ছিলনা বললেই চলে। অডিটোরিয়ামের অভ্যন্তরে হট্টগোলের ফলে নারী ভোটাররা বিড়ম্বনার শিকার হন বলে জানা যায়। উল্লেখ্য এর পূর্বে সভাপতি দিলীপ কুমার সাহা, সহ সভাপতি মোবারক হোসেন সরদার, সহ সভাপতি ইমদাদুল হক ইমু, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক (সংরক্ষিত) লায়লা খাতুন, পাঠাগার সম্পাদক বিবেকানন্দ মন্ডল, ক্রীড়া সম্পাদক সঞ্জয় কুমার রায়, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বাদশা। তাদের বিপরীতে কোন প্রতিদ্বন্দি প্রার্থী না থাকায় তাদেরকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। এব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান নওয়াপাড়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান জানান, শুরুর দিকে বৃষ্টির কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল কিন্তু বৃষ্টির পরে একসাথে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা বেকায়দায় ফেলেছিল যা আমরা সামাল দিতে সক্ষম হই। তাছাড়া নির্বাচন অবাদ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশ করা হবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular