Homeসারাদেশঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবিশ্বাস্য যানজটে দূর্বিষহ পরিস্থিতি।

ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবিশ্বাস্য যানজটে দূর্বিষহ পরিস্থিতি।

এস.এন.রাসেল

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে চান্দিনা এবং দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন আটকে থাকা বহু যাত্রী।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভোর রাতে আনুমানিক ৪ঃ২০ এর দিকে দাউদকান্দির মাধাইয়া এলাকার নুড়িতলা এলাকায় একটি লরি রাস্তায় পড়ে যায়। এ কারণে দুই লেনের একটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ওই সড়কে এ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

যানজটে আটকে থাকা কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ যাত্রীরা নবদূত নিউজকে জানান, কুমিল্লা থেকে সকাল ৭টায় তারা রওনা হয়েছেন। কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে এসে গাড়ি থেমে যায়। এখন তারা সেখানেই আটকে আছেন।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. সালাউদ্দিন বলেন,‘ ইলিয়টগঞ্জের দুর্ঘটনার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এখন ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। আশা করি, সড়ক ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই স্বাভাবিক হবে। আমরা সড়কেই আছি।’ তবে সেখানে সাধারণ যাত্রীরা অভিযোগ তুলে বলেন,রাস্তায় কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এবং দুই ঘন্টায় এখনো কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তারা সড়কের অন ডিউটি করতে দেখেননি। কিছু দূরে যাওয়ার পর আরো কিছু যাত্রীদের মধ্যে একজন জানান তিনি প্রায় আড়াই কিলোমিটার হেঁটেও একজন পুলিশ সদস্যকে ও দেখতে পাননি। যত্রতত্র গাড়ি ঢুকিয়ে যানজট কে আরো দীর্ঘায়িত করছে এতে প্রশাসনের দায়িত্ব পালন দূরে থাক কোনো প্রকার নজরদারি পর্যন্ত নেই।

ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রেমধন মজুমদার জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লরি উদ্ধার করা হয়েছে। এখন কুমিল্লা-ঢাকা লেনে যানজট আছে। যানজট কমিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।

দেখা যাচ্ছে, যানজট আমাদের জীবনমানের উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। বর্তমানে যানজটের কারণে আমাদের জ্বালানি খরচ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। এ জ্বালানি দিয়ে দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব। নগরবিদ, গবেষক, পুলিশসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চালকগণ আরো সচেতন হতে হবে। এবং নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হতে হবে। যানজট সমস্যাটা তলাবিহীন ঝুড়ির মতো। এ সমস্যার সমাধানে যা-ই করা হোক না কেন, তা তলা দিয়ে পড়ে যায়, কোনো কাজে আসে না। এর প্রধান কারণ, সমস্যা সমাধানে সমন্বয়হীনতা। আসলে যে যার মতো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। ফলে তা কাজে না এসে উলটো আরও সংকট সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাস্তায় যানজট নিরসনে একই রাস্তায় একাধিক পরিবহণ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। নগরীর প্রতিটি রাস্তায় লেন সিস্টেম করে এবং তা মেনে চললে যানজট অধিকাংশে কমে আসবে। ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ভেতর আনতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনার পাশাপাশি যানজটের কেন্দ্রবিন্দুগুলো চিহ্নিত করে নির্মাণ করা হচ্ছে বড় বড় ফ্লাইওভার। মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেই যে যানজটমুক্ত হবে এ নিশ্চয়তা কেউ দিতে না পারলেও সমস্যা যে কমবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

RELATED ARTICLES

Most Popular