Homeশিক্ষাশত বাধা বিপত্তিকে ডিঙিয়ে সফলতার মুখ দেখলেন সুমাইয়া।

শত বাধা বিপত্তিকে ডিঙিয়ে সফলতার মুখ দেখলেন সুমাইয়া।

এস.এন.রাসেল


কুমিল্লা জেলার অন্যতম উপজেলা চৌদ্দগ্রামের ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামের মেয়ে সুমাইয়া। তার পিতা অবঃ নৌ-বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব শামসুল হক। প্রত্যন্তগ্রামে বসবাস করলেও তার স্বপ্ন ছিল ইয়া বড়। আমাদের সমাজে মেয়েদেরকে একটু ভিন্ন চোখেই দেখা হয়। পড়াশোনায় কোনোমত এসএসসি পাস করার পরেই পরিবারের চাপ দেয় বিয়ের দিকে। সুমাইয়ার ক্ষেত্রে ও সেরকমই চাপ আসে। পরে বড় বোন জাকিয়া-ইসহাক ও তার বড় ভাই রাসেল পরিবারকে বুঝিয়ে বিয়ে নামক বিষয়টাকে বাদ দেয় এবং তাদের সতঃস্পুর্ত সমর্থন ও উৎসাহে সুমাইয়াকে আরো উৎসাহ প্রদান করে। তবে সেখানে আরো কিছু বাধার সৃষ্টি হয়। প্রথমত, সুমাইয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হওয়ার পরেও পরীক্ষাকেন্দ্রে জটিলতার কারণে ঐ কেন্দ্রের সকলকেই ফলাফল অকৃতকার্য করলে তার মাঝে সুমাইয়ার কপালে ও ধ্বস নামে। তাকে শুনতে হয় নানান লোকের মুখে নানান কথা। তার পরেও সে থেমে থাকেনি। তার পড়াশোনা সে চালিয়ে যায় এবং পরের বছরে পরীক্ষা দিয়ে দাখিল পরীক্ষায় সফলতার সহিত কৃতকার্য হয়। দ্বিতীয়ত, আলিম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে তার “মা” গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরে দীর্ঘদিন (প্রায় দেড়মাসের মত) কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলো। মায়ের সেবাযত্নের পাশাপাশি তাকে তার আলিম পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে হয়েছিলো। এবং অবশেষে সে আবারও সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। মাকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে তার পক্ষে পড়াশোনা করাটাও অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিলো। পরক্ষণে তার এগিয়ে চলার কথা চিন্তা করে মাকে আইসিইউ থেকে বের করে আনার পরে সে একটি কোচিং সেন্টারে এ ভর্তি হয়ে অনলাইন ক্লাস করে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যায়। এখন ও তার মা অসুস্থ। তবে তাকে সবকিছু মিলিয়ে অনেক ত্যাগ-তিথীক্ষার মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। অবশেষে তার ঠাঁই হলো জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটিতে। এতে অনেক আনন্দিত সুমাইয়া ও তার পরিবার।
সুমাইয়ার সাথে কথা বললে সে নবদূত নিউজ কে জানায়, তার এই জীবন যুদ্ধে জয়ী হতে পেরে সেও এখন অনেক খুশি এবং তার পরিবার ও অনেক খুশি বলে জানান। সুমাইয়া আরো জানায়, তার প্রিয় শিক্ষাঅঙ্গন ধনুসাড়া ফাজিল মাদ্রাসার থেকে এই প্রথমবারের মতো সেই -ই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পেয়েছে। আর তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো সে পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা হবেন। এবং যারা তাকে মানসিকতা দিক থেকে সাপোর্ট করেছে তাদের প্রতি সে অনেক কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতে ও সে তাদেরকে পাশে পেতে চান।
তার পরিবারের সাক্ষাৎকারে বলেন তার জীবনের এই লড়াইয়ে তার এই সফলতায় তারা সবাই অনেক আনন্দিত। তারা সবাই চায় সেই পড়াশোনা করে ভালো একটা পজিশন যাবে। এবং তার স্বপ্ন পূরণ হোক। তাকে সর্বত্রই সাপোর্ট করে যাবে। এবং তাকে তার ইচ্ছে স্বাধীনতা দেয়া হবে।
তার শৈশবের শিক্ষাঅঙ্গন ধনুসাড়া ফাজিল মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ জানান, সুমাইয়া খুবই ভালো এবং মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। তার পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ ছিল ছোট থেকেই। যদিও তার পরীক্ষাকেন্দ্রের কিছু জটিলতার কারণে তাকে একবছর ড্রপ দিতে হয়েছিল। কিন্তু তাদের বিশ্বাস ছিলো যে, সুমাইয়া একদিন বাংলাদেশের মধ্যে তাকে ভালো কিছুর মাধ্যমে তুলে ধরবে। এবং সেই সাথে প্রতিষ্ঠানের নাম ও উজ্জ্বল করবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী সুমাইয়া ই এই প্রথম ব্যক্তি যে কিনা জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটির মতো টপ লিস্টে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে এই প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পায়নি। তার জন্যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শুভকামনা জানালেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular