Homeবিনোদনশহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ

শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ

কিংবদন্তি গীতিকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মরদেহটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১১ থেকে ১২টা পর্যন্ত রাখা হয়।

এ শ্রদ্ধা অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রথমেই দেয়া হয় গার্ড অব অনার। এর পর ফুল দিয়ে শ্দ্ধা জানানো শুরু হয়। এ সময় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মেয়ে দিঠি আনোয়ার ও ছেলে উপলও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তার স্বজন, বন্ধুবন্ধব, রাজনীতিক-সাংস্কৃতিকসহ নানা সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ছেলে উপল
জানান, তার বাবার গানের পরিমাণ ২০ হাজারেরও বেশি। ৪২টির মতো সিনেমা পরিচালনা করেছেন তিনি। একটি আসমাপ্ত বই নিয়েও কাজ করছেন তারা, যেটি আগামী বই মেলায় প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। আমরা চেষ্টা করব তার সৃষ্টি সংরক্ষণ করার জন্য। সরকার করবে কি না, সেটা তো আমরা জানি না। তবে তারা করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করব।

এরপর গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ নেওয়া হচ্ছে চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর এফডিসিতে। সেখানে বাদ জোহর অনুষ্ঠিত হবার তাঁর প্রথম জানাজা। সেই সঙ্গে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। বাদ আসর গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মরদেহ রাখা হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় জানাজা। এরপর বনানী কবরস্থানে তার মা খোদেজা বেগমের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।

এর আগে রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ৫৫ ‍মিনিটে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান কিংবদন্তিতুল্য গীতিকবি, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। ১৯৬৪ সাল থেকে রেডিও পাকিস্তানে গান লেখা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই নিয়মিত গান ও নাটক রচনা করেন। চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান লেখেন ১৯৬৭ সালে, আয়না ও অবশিষ্ট চলচ্চিত্রের জন্য।

দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে বেতার, টেলিভিশন, সিনেমাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কয়েক হাজার গান রচনা করেছেন। ২০০২ সালে গীতিকবিতায় অবদান রাখার জন্য একুশে পদক লাভ করেন তিনি। গত বছর পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক। এছাড়া পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এই গুণী মানুষটি।

RELATED ARTICLES

Most Popular