Homeশিক্ষাঙ্গন'একজন শিক্ষক, একজন অভিবাবকের বিদায়'

‘একজন শিক্ষক, একজন অভিবাবকের বিদায়’

গবি প্রতিনিধি:


‘এবার চলিনু তবে, সময় হয়েছে নিকট, এখন বাঁধন ছিঁড়িতে হবে’ জীবনের এই কঠিন সত্যটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন অনেক আগেই। তেমনই এক মুহূর্তের সম্মুখীন হয়েছে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস অনুষদ।

অনুষদের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন মন্ডল-এর বিদায়ে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অ্যাকাডেমিক ভবনে এই বিদায় সংবর্ধনা আয়োজিত হয়েছে।

বিদায় সংবর্ধনার শুরুতে বিদায়ী শিক্ষকের সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতিময় মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকের সাথে আবেগ-অনুভূতি মিশ্রিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। পাশাপশি বিদায়ী ডিনের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন সবাই।

প্রি-ক্লিনিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সজিবুল বলেন, উনার সাথে কাজ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। উনি আসলে আমাদের সকলের প্রতি খুবই যত্নশীল ছিলেন। উনার মতো নিরহংকার মানুষ আমি দেখিনি। উনার যত্নশীলতা আমাদের মনে থেকে যাবে। একজন উপদেষ্টা হিসেবে উনি আমাদের মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকবেন এই আমাদের প্রত্যাশা।

এনিম্যাল প্রোডাকশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বলেন, আমাদের অনুষদের প্রতি স্যারের অবদান আদলে বলে শেষ করা যাবেনা। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হয়েও উনি এতটা বিনয়ী মানুষ তার দেখা মেলা ভার। কিন্তু অনুষদের যেকোনো বিষয়ে উনি ছিলেন আপোষহীন। ভেটেরিনারি অনুষদের আজকের এই অবস্থানে আসার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান উনার। আজ প্রাতিষ্ঠানিক বিদায় হলেও আমরা সবসময় স্যারের পরামর্শ চাই।

ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্সেস অনুষদের ডিন ও বিদায়ী অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন মন্ডল বলেন, আমি বিদায়ে বিশ্বাসী না। আমি বিদায় নিতে আসিনি। আমি সবার থেকে শিখি। সবার থেকেই শিখতে চাই। প্রশাসন যদি পরবর্তীতে আপনাকে চায় সেটা তখন দেখা যাবে। তোমরা সাবধানতার সাথে পড়ালেখার পাশাপশি আত্মোন্নয়ন করো। নিজেদেরকে যোগ্য করে তুলো।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. মোতাহার হোসেন মন্ডল প্রায় চার দশকের বেশি সময় ধরে শিক্ষকতার সাথে যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ভেটেরিনারি প্যারাসাইটোলজি নিয়ে গবেষণার চালিয়ে গেছেন তিনি।

সফল গবেষক হিসেবে তার গবেষণা ফলাফল দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খ্যাতনামা র্জানালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় গুরুত্বপূর্ন অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৬ সালে ‘দি নিউইয়র্ক একাডেমি অব সায়েন্সেস’ এর সদস্য পদ লাভ করেন। বাংলাদেশ ‘সোসাইটি ফর প্যারাসাইটোলজি’র সভাপতি তিনি।

এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন এন্ড রিসার্স সেন্টার, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল ইত্যাদির সাথে।

RELATED ARTICLES

Most Popular