Homeসাহিত্যপ্রবন্ধ/নিবন্ধগণঅধিকার পরিষদ-এর রাজনীতি; আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের রাজনীতি!

গণঅধিকার পরিষদ-এর রাজনীতি; আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের রাজনীতি!

রাজনীতি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া! টেস্ট ক্রিকেট খেলার মতো, ক্রিজে টিকে থেকে টুকে টুকে রান সংগ্রহ করতে হয়। তাড়াহুড়ো করলেই কেল্লাফতে; বোল্ড আউট! বরং টিমওয়ার্কে কচ্ছপ গতিতে এগিয়ে গেলে বিজয় অবশ্যম্ভাবী। কেননা প্রত্যেক দশকে রাজনীতির পরিবর্তিত হিসাব নিকাশ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়! ষাটের দশক, সত্তরের দশক, আশির দশক, এমনকি ৯০’র পরবর্তী ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনসহ ইতিহাসখ্যাত নানা ঘটনা আমাদের জানা। ২০২১-২০৩১, ২০৩১-২০৪১ এমনই দুটি দশক। ধৈর্য ধরে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে পারলে বিজয় আসবেই! এরই মধ্যে ২০২৩, ২০২৮, ২০৩৩, ২০৩৮ এই ৪ টি নির্বাচনে বাংলাদেশে রাজনীতির গতিপথ নতুনভাবে নির্ধারিত হবে বলে অনেকেই মনে করে! ইতিহাসে ফ্যাসিজম ও ডিক্টেটরশিপের পতন অনিবার্য। আর ফ্যাসিস্ট বা ডিক্টেটর এর পতনের পর সেই দলের রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার নজীর খুব একটা আছে বলে মনে হয় না; জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে!

২৬ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি’র ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ও ডাকসু’র সদ্য সাবেক ভিপি নুরুলহক নুর এর নেতৃত্বে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ১২১ জনে উন্নীত করা হয়। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার, জাতীয়স্বার্থ এই ৪ টি মূলনীতি ও ২১ দফা কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। ‘জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তারুণ্যনির্ভর অধিকারভিত্তিক রাজনীতি শুরু করে দলটি। মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার বাস্তবায়নে কাজ করবে দলটি। দলটির লক্ষ্য গণতান্ত্রিক, দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন, জ্ঞানভিত্তিক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা।

গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি এখন জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করছে। ইতোমধ্যে ৪২ টি জেলা, ০২ টি মহানগর, ১৫০ টিরও বেশী উপজেলা, কয়েকটি থানা ও ইউনিয়নে আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে কেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যেক ইউনিটে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করলে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। যাতে আনুমানিক সময় লাগবে ৫-৭ বছর। অর্থাৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে ওয়ার্ড পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ যোগ্য নেতা-কর্মী পাবে ২০২৮ সালে। ইতোমধ্যে অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ, আইনজীবী অধিকার পরিষদ, নারী অধিকার পরিষদ ও গণসংস্কৃতি পরিষদ এই ০৭ টি সংগঠন নিরলসভাবে কাজ করছে। এছাড়াও ৭ দলীয় গণতন্ত্র মঞ্চকে নিয়ে গণঅধিকার পরিষদ রাজপথের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। সরকারবিরোধী সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুতে ঢাকার রাজপথে নানা প্রতিকূলতাসত্ত্বেও এককভাবে গণঅধিকার পরিষদ মিছিল-সভা-সমাবেশ করছে; জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ছে; নেতৃবৃন্দ হামলা-মামলারও শিকার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ২০২৮ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে গণঅধিকার পরিষদ একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জানান দিতে পারে। এভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে এগিয়ে যেতে পারলে ২০২৮ এ জিওপি’র তারুণ্যের রাজনীতি যেমন চমক দেখাতে পারে, ঠিক তেমনি ২০৩৩ বা ২০৩৮ সালের নির্বাচনে দলটি নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে আসতে পারে! কেননা চলমান রাজনৈতিক সংকটে নেতৃত্বের শূণ্যতা গণঅধিকার পরিষদ-এর বিজয়ের পথ সুগম করবে।

প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ২০২৩ সালের নির্বাচনে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা কি থাকবে? এর জবাব হলো নিবন্ধন পেলে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে গণঅধিকার পরিষদ! জনগণের দল জনগণের হয়ে রাজনীতি করবে। মনে রাখতে হবে, ভারতে পরিবারতন্ত্রের বিপরীতে বিজেপি কিভাবে দল হয়ে উঠলো, পাকিস্তানে পরিবারতন্ত্রের বিপরীতে পিটিআই এর কিভাবে উত্থান হলো? বিজেপি বা পিটিআই এককভাবে নির্বাচন করে কতটি আসন পেয়েছিলো? প্রথম বা দ্বিতীয় নির্বাচনে আসনপ্রাপ্তি নেহাত কম হলেও আজকে তারাই লিডিং দল; রুলিং পার্টি!

যেহেতু গণঅধিকার পরিষদ-এর রাজনীতি, আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের রাজনীতি; সেহেতু গণঅধিকার পরিষদ সর্বপ্রথম দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কারণ গণঅধিকার পরিষদ মনে করে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এলক্ষ্যে জিওপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বেশকিছু ধারায় নতুনত্ব এনে দলীয় গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছে যা দলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে! ৫১ বছরে দেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র যেখানে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে সেখানে নতুন ধারার তারুণ্যের রাজনীতি জাতিকে নতুন কিছু উপহার দিবে এটাই জনগণ প্রত্যাশা করে। জিওপি গঠনতন্ত্রে বেশকিছু বিশেষত্ব পরিলক্ষিত হয়, যেমন:

১) দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার আদলে উচ্চতর পরিষদ ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন;

২) একই ব্যক্তি দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধান হতে পারবে না;

৩) পরপর দুইবারের বেশী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকতে পারবে না;

৪) কাউন্সিলে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন;

৫) ইলেক্টরাল ভোটে দলের হাইকমান্ড তথা উচ্চতর পরিষদ নির্বাচন;

৬) নারীদের জন্য সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ সংরক্ষণ;

৭) ছাঁয়া কেবিন্যাটের আদলে সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি;

৮) কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব;

৯) ছাঁয়া পার্লামেন্টের আদলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা রাখা প্রভৃতি।

গণঅধিকার পরিষদ মনে করে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সেলক্ষ্যে কাজ করছে আইনজীবী অধিকার পরিষদ। রাষ্ট্র বিনির্মানে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, সংখ্যানুপাতিক ভোটে সংসদীয় আসন নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, ন্যায়পাল নিয়োগ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, নগর সরকার ও বিভাগীয় সরকার চালু, হাইকোর্ট স্থাপন, পরপর দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদককে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রদান, রাজাতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র নয় বরং নাগরিকতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি নানা প্রস্তাবে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে বিজয় বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ এর ইতিহাসে মাইলফলক। ৯০’র পরবর্তী সময়ে সুকৌশলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রাজনীতিকে মেধাশূণ্য করা হয়, তখন ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনটি গোটা দেশের ছাত্র রাজনীতির জন্য তাৎপর্যময় হয়ে উঠে। গোটা বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে থাকে ডাকসু নির্বাচনের দিকে। নানা নাটকীয়তার পর দীর্ঘ ২৮ বছর ডাকসু’র ভিপি হন নুরুল হক নুর। পরবর্তীতে ছাত্র অধিকার পরিষদ এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে গঠন করা হয় বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ। এরই ধারাবাহিকতায় মূল রাজনৈতিক দল আজকের গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি। ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর হয়ে যান বাংলার ভিপি।

আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা দলকে কখনই রাজনীতি থেকে বিলীন করা যায় না। অনেকে প্রশ্ন করেন এর আগেও অনেক রাজনৈতিক দল হয়েছে; কিন্তু তারা আজ অস্তিত্ব সংকটে। দল ভেঙ্গে দল গড়া, এক নেতার এক দল এদেশে নতুন কিছু নয়।আ’লীগ থেকে বের হয়ে এসে যেমন গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য গঠিত হয়েছে, তেমনি বিএনপি থেকে বের হয়ে এসে বিকল্পধারা, এলডিপি গঠিত হয়েছে। এদিকে ব্রাকেট বন্দী জাসদ ও জাপা তো আছেই। সব দল থেকে বের হয়ে নতুন নতুন দল গঠিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমে ছাত্র আন্দোলন, এরপর ছাত্র সংগঠন, পরবর্তীতে যুব সংগঠন এবং এরই ধারাবাহিকতায় মূল রাজনৈতিক দল গঠনের ইতিহাস এটাই প্রথম। এর আগে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগ থেকে বের হয়ে এসে অনেকে মিলে জাসদ গঠন করেছে। পাকিস্তান আমলে ১৯৪৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে ছাত্র লীগ গঠিত হয়। এরপর ১৯৪৯ সালে পূর্ব বাংলা আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠিত হয়। শেখ মুজিব মাত্র ২৯ বছর বয়সে উক্ত দলের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন। এর পরের ইতিহাস সকলের জানা।

ড. আকবর আলী খান গত ১৫ আগস্ট, ২০২২ প্রথম আলোতে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তরুণ নেতৃত্ব এলেই দেশ বদলাবে, পুরোনোরা কিছু পারবে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার গরিষ্ঠ অংশ তরুণ। বর্তমান নেতৃত্ব হচ্ছে পুরোনো। এদের কবল থেকে বের হয়ে তরুণ নেতৃত্ব গড়তে পারলে এখানে গণতন্ত্রের ভবিষৎ আছে। নয়তো যেভাবে আছে, সেভাবে চলবে। তবে আমি আশা করতে পারি, তরুণ শক্তি জেগে উঠবে। তরুণদের উপর আমার আস্থা আছে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার অবসর গ্রহণের পর গত ফেব্রয়ারি মাসে ভিপি নুরের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বলেন, নুর আমি হয়তো বেশী দিন থাকবো না, তুমি কিছু একটা করিও দেশের জন্য। আমার বিশ্বাস তোমাদের হাত ধরেই এদেশে গণতন্ত্র ফিরবে। আমি যদি সকলের গ্রহণযোগ্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দেখে যেতে পারতাম!

আসম আব্দুর রব এক বক্তৃতায় বলেন, আমাকে তোমরা ১০ টি নুর দাও আমি তোমাদেরকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিবো।

ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, নুরেরাই পারবে এদেশের রাজনীতির বদল ঘটাতে।

ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী স্বপ্ন দেখেন গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে। তিনি বলেছেন, আমার বয়স থাকলে আমিই তোমাদের সাথে রাজনীতি করতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়াতাম। আমি কখনই সরাসরি রাজনীতি করিনি, কিন্তু তারুণ্যের এই রাজনীতি করতে পারলে সবচেয়ে ভালো লাগতো।

সর্বোপরি, গণঅধিকার পরিষদ এর রাজনীতি পরিবারতন্ত্রের বিপরীতে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি, সংবিধান সংস্কার এর রাজনীতি, জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের রাজনীতি, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার রাজনীতি, জাতীয়স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। সর্বোপরি, গণঅধিকার পরিষদ-এর রাজনীতি আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মানের রাজনীতি। এজন্যই বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, গণঅধিকার পরিষদ!

লেখকঅ্যাড. সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী। এলএল.বি (অনার্স); এলএল.এম (ঢা.বি) আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট। সহকারী আহবায়ক, গণঅধিকার পরিষদ।

RELATED ARTICLES

Most Popular